হাওজা নিউজ এজেন্সি: সংবাদসূত্রে জানা যায়, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই (১৬ ও ১৭ জুলাই) আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে ‘নো টু ন্যাটো’ জোট ইস্তাম্বুল ও ইজমিরে একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ন্যাটোর নীতি এবং এ সম্মেলনের আয়োজনের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।
ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে সমবেত হন। এ সমাবেশে ডিইএম (DEM) পার্টির প্রতিনিধি ওজগুল সাকি এবং তুরস্কের শ্রমিক পার্টি (EMEP)-এর প্রতিনিধি ইস্কান্দার বায়হান উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে পাঠ করা বিবৃতিতে তুরস্ক সরকারের নীতির সমালোচনা করে বলা হয়, ন্যাটো সম্মেলনের আয়োজন পশ্চিমা শক্তিগুলোর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি প্রচেষ্টা। এতে আরও অভিযোগ করা হয়, সরকার নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর চাপ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে এ সম্মেলন আয়োজনের পরিবেশ তৈরি করছে।
বিবৃতিতে ন্যাটোকে ‘যুদ্ধমুখী ও সাম্রাজ্যবাদী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং বলা হয়, তুরস্কের জনগণ ন্যাটোর উপস্থিতি, এ জোটের সামরিক ঘাঁটি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ও টম বারাকের মতো ব্যক্তিদের দেশে উপস্থিতি কামনা করে না।
বিক্ষোভকারীরা আরও দাবি করেন, যুগোস্লাভিয়া, আফগানিস্তান ও লিবিয়ার ঘটনাবলি এবং গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনের মাধ্যমে ন্যাটো বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাত ও সংকটে জড়িত ছিল। তারা এ অঞ্চলকে নতুন যুদ্ধের ময়দানে পরিণত করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেন।

এদিকে, ইজমিরেও শত শত মানুষ ন্যাটোর একটি সামরিক ঘাঁটির সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। তারা ন্যাটো এবং সম্মেলনকে ঘিরে তুরস্ক সরকারের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর ওপর বাড়তি চাপ ও নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করার অভিযোগ তোলেন।
‘নো টু ন্যাটো’ জোট তাদের যৌথ বিবৃতিতে চারটি প্রধান দাবি উত্থাপন করে। এগুলো হলো— তুরস্কে ন্যাটোর সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা, অবিলম্বে তুরস্কের ন্যাটো ত্যাগ, এ সামরিক জোটের বিলুপ্তি এবং বিশ্বব্যাপী অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করা।
এছাড়া, ফিলিস্তিন, ইরান, লেবানন ও সিরিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে জোটটি যুদ্ধমুখী ও হস্তক্ষেপমূলক নীতির বিরোধিতার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে তারা তুরস্কের জনগণকে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ন্যাটো সম্মেলন এবং সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান প্রকাশের আহ্বান জানায়।
আপনার কমেন্ট